×

গরমে পান্তা ভাতের স্বাস্থ্য উপকারিতা

বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে অন্যতম হলো পান্তা ভাত। বিশেষ করে গরমের দিনে অনেকেই এই খাবারকে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রাখেন। পহেলা বৈশাখের উৎসবে পান্তা-ইলিশ দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয় একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। একসময় গ্রামবাংলার কৃষকদের সকালের প্রধান খাবার ছিল এই পান্তা ভাত, যা সারাদিন মাঠে কাজের শক্তি জোগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত।

এখনও অনেক পরিবারে সরিষার তেল, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, লবণ ও ভাজা মাছের সঙ্গে পান্তা ভাত খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের সময় শরীর ঠান্ডা রাখতে পান্তা ভাত সহায়ক ভূমিকা পালন করে এবং এতে রয়েছে একাধিক স্বাস্থ্য উপকারিতা।

পান্তা ভাতে আয়রনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়, যা রক্তস্বল্পতা কমাতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি এতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়, যা হজমশক্তি উন্নত করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানও থাকে। গরম ভাতের তুলনায় পান্তা ভাতে চর্বির পরিমাণ কম থাকায় এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

অনেকেই পান্তা ভাতকে শরীরের প্রাকৃতিক শীতলকারী খাবার হিসেবে বিবেচনা করেন। গরমের দিনে এটি শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে এবং দীর্ঘ সময় কাজ করার শক্তি জোগায়।

হলিক্রস মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পুষ্টিবিদ মাহিনুর ফেরদৌস জানান, অনিদ্রা সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্যও পান্তা ভাত উপকারী হতে পারে। তাঁর মতে, এতে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, জিঙ্ক, ফসফরাস, ভিটামিন বি-৬ ও ভিটামিন বি-১২-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সাধারণ রান্না করা চালের তুলনায় পান্তা ভাতে আয়রন ও ক্যালসিয়ামের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও জিঙ্কের মাত্রাও তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়, যা শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে সহায়তা করে।

এছাড়া ত্বকের সতেজতা ও তারুণ্য ধরে রাখতেও পান্তা ভাত সহায়ক হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সব মিলিয়ে গরমের এই সময়ে সকালে সরিষার তেল, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ ও লবণের সঙ্গে এক প্লেট পান্তা ভাত হতে পারে স্বাদ ও সুস্থতার দারুণ সমন্বয়।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)