
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন আইন, নীতিমালা, সেবাকেন্দ্র ও সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সোমবার জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০২৬, ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (ডিএনএ) আইন-২০১৪ ও বিধিমালা-২০১৭, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ও বিধিমালা-২০১৮ এবং বাল্যবিবাহ নিরোধকল্পে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০১৮-২০৩০) প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেছে।
তিনি জানান, কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন-২০২৬’ প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন-২০১০ রহিত করে ‘পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন-২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০২৬ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পাস হয়েছে। এ আইনের আওতায় শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের মামলার বিচার পরিচালিত হবে। এছাড়া অভিযুক্ত বা ভুক্তভোগীর সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, ডিএনএ আইন-২০১৪ অনুযায়ী ডিএনএ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ২০২৫ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে ধর্ষণ মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত সম্পন্ন করার বিধানও যুক্ত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে সমন্বিত সেবা দিতে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে পর্যায়ক্রমে ৩৭টি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করা হবে। বর্তমানে ১৪টি ওসিসিতে চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, পুলিশি সহায়তা, মনোসামাজিক কাউন্সেলিং, পুনর্বাসন, সামাজিক পুনঃএকত্রীকরণ ও আয়বর্ধক প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হচ্ছে। এসব কেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত ৮২ হাজার ৬৭৮ জন সেবা পেয়েছেন।
এ ছাড়া জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপিত ৯৫টি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেল থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭০ হাজার ৫২৩ জন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী টোল-ফ্রি জাতীয় হেল্পলাইন-১০৯ চালু রয়েছে। এই হেল্পলাইনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪০ জন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
