
চীনের ঐতিহাসিক তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অবস্থিত ‘মনুমেন্ট টু দ্য পিপলস হিরোজ’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দেশটির বিপ্লবী বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার চীনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে তিনি এই শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। এ সময় বাংলাদেশ ও চীনের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে চীনের বিপ্লবী বীরদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ অন্যরা।
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে বেইজিংয়ে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের অংশ হিসেবে শুক্রবার গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গেও বৈঠকের সূচি রয়েছে।
এর আগে ২১ জুন মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরকারি বিদেশ সফর শুরু হয়। পরে তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সামার দাভোস ২০২৬-এ অংশ নিতে চীনের দালিয়ান শহরে যান। সেখানে দুই দিনের কর্মসূচি শেষে বুধবার বিকেলে বেইজিং পৌঁছান।
বৃহস্পতিবার গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়।
একই দিনে বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোয়িং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিনিয়োগ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রোমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে। এছাড়া তিনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিংয়ের সঙ্গে দলীয় পর্যায়ে বৈঠক করেন।
চীনে অবস্থানকালে বিভিন্ন বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ নির্বাহী, চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সি, চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দেশের উন্নয়নে আরও কার্যকর অংশীদারিত্বের বিষয়ে আলোচনা হয়।
বেইজিং পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনার মাধ্যমে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভ্যর্থনা জানানো হয়। মালয়েশিয়া সফর ও সামার দাভোসে অংশগ্রহণের মতো এ সফরেও তিনি মাত্র ২৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে সফর করছেন, যার মধ্যে ১১ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা রয়েছেন।
সফর শেষে শুক্রবার বিকেল ৫টায় বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
