×

প্রচলিত বাজেটের মডেলে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছি: অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে সরকার প্রচলিত বাজেটের মডেলে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছে। নতুন বাজেটে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে মূলধারার অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি আয়োজিত ‘ডিবেট বাজেট অ্যান্ড বিয়ন্ড’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর ছিল। অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি মানুষ যাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারে, সে লক্ষ্যেই নতুন বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কামার-কুমার, কুটিরশিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, ক্রীড়াবিদ এবং হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীসহ এতদিন অর্থনৈতিক সুফলের বাইরে থাকা মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

সৃজনশীল অর্থনীতির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, গ্রামীণ মৃৎশিল্প, শীতলপাটি ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পকে অধিক বাজারযোগ্য করে তুলতে পারলে কারিগরদের আয় কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে যে পণ্য ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়, সেটি যদি ২ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়, তাহলে কারিগরদের আয় যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের অর্থনীতি ও জিডিপিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

লোকসংগীত, সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র শিল্পকে অর্থনীতির সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, গান, সংস্কৃতি, চলচ্চিত্রসহ বিনোদন খাতকে অর্থনৈতিকভাবে আরও কার্যকর ও আয়বর্ধক খাতে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে।

উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় সরকার ১ হাজার ৩০০টি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে পেয়েছে। এসব প্রকল্প পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার, ডিরেগুলেশন এবং কার্যকর মনিটরিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সেমিনারে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, বাজেটের প্রতিটি ব্যয়ের প্রকৃত সুফল কারা পাচ্ছে, তা নিয়ে গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।

আলোচনায় অংশ নেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল আমিন, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শারমিন্দ নীলোর্মি, বিআইডিএসের ড. কাজী ইকবাল এবং বুয়েটের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাজমুল ইসলাম।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)