
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, দেশের প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর জন্য পর্যায়ক্রমে ইউনিফর্ম ও জুতা সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত পোশাক ও জুতা বিতরণের কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।
তিনি জানান, চলতি বছরের আগস্টের মধ্যেই পাইলট কর্মসূচির দৃশ্যমান অগ্রগতি জনগণের সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্তির আগেই এ উদ্যোগের বাস্তবায়ন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের শীর্ষস্থানীয় জুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ড্রেস ও জুতা বিতরণ বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে সরকারের এ উদ্যোগে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। তাদের সহযোগিতায় পাইলট প্রকল্পের জন্য ৪ লাখের বেশি ইউনিফর্ম সংগ্রহের ব্যবস্থা হয়েছে। একইভাবে জুতা শিল্পের প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকেও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে সরকার।
তিনি আরও বলেন, পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সাদা রঙের ভেলক্রোযুক্ত (ফিতাবিহীন) কেডস সরবরাহের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। যেহেতু প্রথম শ্রেণির অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বয়স প্রায় ছয় বছর, তাই উপযুক্ত সাইজ, ছেলে ও মেয়েশিশুদের প্রয়োজন এবং সরবরাহযোগ্য পরিমাণ সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানগুলোর মতামত নেওয়া হয়েছে।
ববি হাজ্জাজ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্ভাব্য অনুদানের পরিমাণ, সরবরাহের সময়সীমা এবং উৎপাদন ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিসরে শিক্ষার্থীদের জুতা সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার ও শিল্পখাতের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হবে।
সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং দেশের বিভিন্ন জুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
