×

শিশুদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে ক্রীড়া কার্যক্রম : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিশুদের ক্রীড়ামুখী ও সুস্থভাবে গড়ে তুলতে খেলাধুলাকে পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার মিরপুরের ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬-এর জাতীয় পর্যায়ের খেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুদের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। শিশুদের জন্য আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে ক্রীড়া কার্যক্রমকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এ কারণেই খেলাধুলাকে পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট সেই প্রচেষ্টারই অংশ।

এহছানুল হক মিলন আরও জানান, দেশের সব শিক্ষার্থীর জন্য স্কুল ড্রেস প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল বা স্কুল ফিডিং কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। চলতি বছরের মধ্যেই দেশের সব স্কুলে এ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, শিশুদের মধ্যেই দেশের ভবিষ্যৎ নিহিত। খেলাধুলার মাধ্যমে তারা শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বগুণ ও দলগত চেতনায় সমৃদ্ধ হবে। এ ধরনের টুর্নামেন্ট তাদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসী।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তোমাদের বিকাশ ও সম্ভাবনা বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। একটি সমৃদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি।”

ড. মাহদী আমিন বলেন, “খেলাধুলাকে শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।”

উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে শুরু হওয়া এ টুর্নামেন্টে দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। বালক বিভাগে ১১ লাখ ১০ হাজার ৮১৪ জন এবং বালিকা বিভাগে ১১ লাখ ৩ হাজার ২৯১ জন খেলোয়াড় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।

ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে। এতে দেশের আট বিভাগের চ্যাম্পিয়ন আটটি বালক ও আটটি বালিকা দলসহ মোট ১৬টি দল অংশ নিচ্ছে।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)