
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বিচারব্যবস্থার সংস্কার এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এবং রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় আধুনিক ও কার্যকর পরিবর্তন আনতে সরকার নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার যেকোনো ধরনের অবৈধ ‘পুশ-ইন’ ও ‘পুশ-ব্যাক’-এর নীতিগত বিরোধী। সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছে।
রামিসা হত্যা মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, মামলার বিচারকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে ইতোমধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। তবে আসামিকে দোষী বা নির্দোষ সাব্যস্ত করা এবং রায় প্রদানের বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার।
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
হাসপাতালে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভুক্তভোগীরা মামলা করলে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সার্বিক নিরাপত্তা ও যানজট নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরাভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
তিনি জানান, পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)–এর বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় এই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করা হচ্ছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকায় সফলভাবে বাস্তবায়নের পর এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা দেশের অন্যান্য বড় শহর ও মেট্রো এলাকাতেও সম্প্রসারণ করা হবে।
আসন্ন বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি একটি নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। বৈঠকে মাদক পাচার প্রতিরোধ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক এখতিয়ার এবং এ বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ অন্য কারও নেই।
