
নিজস্ব প্রতিবেদক-
রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদকে ঘিরে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক ও দেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদগাহ ময়দান গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যাপক প্রস্তুতি। আসন্ন ঈদের প্রধান জামাতকে কেন্দ্র করে শতাধিক শ্রমিকের নিরলস পরিশ্রমে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে বিশাল এই ঈদগাহ মাঠ।
প্রতি বছরের মতো এবারও দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানেই অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত। আর সেই জামাতকে ঘিরে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে জোর প্রস্তুতি।
মাঠজুড়ে শতাধিক শ্রমিক ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ চুন দিয়ে নামাজের কাতারের লাইন টানছেন, কেউ মেশিনের সাহায্যে মাঠ সমান করছেন। আবার কেউ দৃষ্টিনন্দন গেট নির্মাণে কাজ করছেন, কেউ বা মাঠজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করছেন।
ইতোমধ্যে ঈদগাহ মাঠের প্রধান প্রবেশপথে নির্মাণ করা হচ্ছে আকর্ষণীয় গেট। পুরো মাঠজুড়ে চলছে সাজসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থাপনার কাজ, যাতে মুসল্লিরা স্বাচ্ছন্দ্যে ও নির্বিঘ্নে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন।
জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। এতে ইমামতি করবেন দিনাজপুর জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানের আয়তন প্রায় ২২ একর। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই এই মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। দীর্ঘ সময় বড় কোনো মিম্বর না থাকলেও ২০১৭ সালে এখানে নির্মাণ করা হয় দৃষ্টিনন্দন ৫২ গম্বুজবিশিষ্ট স্থাপনা।
গম্বুজগুলোর দুই পাশে রয়েছে ৬০ ফুট উচ্চতার দুটি মিনার এবং মাঝখানে ৫০ ফুট উচ্চতার আরও দুটি মিনার। মেহরাবের গম্বুজের উচ্চতা ৪৭ ফুট। এছাড়া পুরো ঈদগাহজুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে ৫১৬ ফুট দৈর্ঘ্যের ৩২টি আর্চ। সিরামিক্স দিয়ে নির্মিত মিনার ও গম্বুজে যুক্ত করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন বৈদ্যুতিক আলোকসজ্জা।
দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা বলেন, ঈদের জামাতে মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেওয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে প্রবেশ ও বের হওয়ার সুবিধার্থে মাঠের চারপাশে স্থাপন করা হচ্ছে ১৬টি গেট। পাশাপাশি রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত যানবাহন পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও।
জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত আয়োজন উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতির কাজ চলমান রয়েছে। ঈদের দিন সকাল ৭টা ১৫ মিনিট থেকে খতিবগণ বয়ান শুরু করবেন এবং সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে প্রধান জামাত।
তিনি আরও বলেন, ঈদের দিন বৃষ্টি না হলে মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করতে পারবেন। তবে এর আগে বৃষ্টি হলেও যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য পর্যাপ্ত পলিথিনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আর মুষলধারে বৃষ্টি হলে বিকল্প হিসেবে পাশের বড় মসজিদে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হবে।
