
আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মিড ডে মিল’ বা দুপুরের খাবার কর্মসূচি চালু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পচা বা নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুতিসহ কঠোর আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
বৃহস্পতিবার খুলনা বিভাগীয় অডিটোরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে খুলনা অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও মেধা বিকাশের লক্ষ্যেই সরকার মিড ডে মিল কর্মসূচি চালু করছে। তবে কোনো কর্মকর্তা বা শিক্ষকের অবহেলায় কোমলমতি শিশুদের পচা খাবার পরিবেশন করা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে চাকরিচ্যুতির পাশাপাশি কঠোর আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে তিনি বলেন, প্রচলিত নকলের প্রবণতা অনেক কমে এলেও এখন ‘ডিজিটাল নকল’ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়িয়ে একটি চক্র শিক্ষা ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়ানো মাত্রই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে সাইবার আইনের আওতায় সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
মাঠপর্যায়ের শিক্ষা প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বড় শহরে অবস্থান করে দায়িত্বে গাফিলতি করা কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত উপজেলায় বদলি করা হবে। শিক্ষা প্রশাসনে নিষ্ক্রিয়তা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
পরীক্ষাকেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো পরীক্ষার্থী মোবাইল ফোন বা অবৈধ কাগজপত্র নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে না। পরীক্ষার হলে কোনো শিক্ষার্থীর কাছে বই বা কাগজ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কক্ষ পরিদর্শককেও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
মাদ্রাসা বোর্ডের খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলে ড. মিলন বলেন, অতিরিক্ত বা কম নম্বর দেওয়ার মতো বিষয়গুলোতে যথাযথ তদারকি নেই। তাই উত্তরপত্র মূল্যায়নের বর্তমান ঢিলেঢালা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুখে আযম মু. আব্দুস ছালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
