
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হেইতির মুখোমুখি হয়েছিল মরক্কো। গ্রুপ ‘সি’ এর এই বাঁচা-মরার লড়াইয়ে হেইতিকে ৪–২ গোল ব্যবধানে হারিয়ে রানার্স-আপ হিসেবে রাউন্ড অব ৩২ (নকআউট পর্ব) নিশ্চিত করেছে উত্তর আফ্রিকার পরাশক্তিরা। ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলের আক্রমণ ও পাল্টা-আক্রমণে খেলাটি বেশ রোমাঞ্চকর মোড় নিলেও দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের চিরচেনা ছন্দে ফিরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় অ্যাটলাস লায়ন্সরা। এই জয়ের ফলে ৩ ম্যাচে ২ জয় ও ১ ড্রয়ে মোট ৭ পয়েন্ট নিয়ে ব্রাজিলের পরেই টেবিলের দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখে পরের রাউন্ডে পা রাখল মরক্কো।
ম্যাচের শুরুটা মরক্কোর জন্য একেবারেই সুখকর ছিল না। ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটে একটি রক্ষণভাগেরই ভুলে আত্মঘাতী গোল হজম করে ১–০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে মরক্কো। শুরুর ধাক্কা সামলে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া মরক্কো একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে। অবশেষে ৩৯ মিনিটে রাইট-ব্যাক আশরাফ হাকিমির একক নৈপুণ্যে দুর্দান্ত এক গোল করে সমতায় ফেরে দল। তবে সেই সমতার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি; ৪৩ মিনিটে হেইতির স্ট্রাইকার উইলসন ইসিদোর চমৎকার এক কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করে দলকে আবারও ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (৪৫+১ মিনিটে) ইসমাইল সাইবারির লক্ষ্যভেদ মরক্কোকে ২–২ গোলের সমতা নিয়ে বিরতিতে যাওয়ার স্বস্তি এনে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে মরক্কোর কোচ রণকৌশল পরিবর্তন করে আক্রমণভাগের ধার বাড়াতে মাঠে নামান সোফিয়ান রাহিমিকে। কোচের এই সিদ্ধান্ত ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়। ম্যাচের ৭০ মিনিটে মাঠে নেমে মাত্র আট মিনিটের মাথায় (৭৮ মিনিটে) দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে মরক্কোকে ৩–২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন রাহিমি। এরপর ম্যাচের শেষ মুহূর্তে, ৮৯ মিনিটে হেইতির কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন জেসিম ইয়াসিন। হাকিমির রক্ষণ ও আক্রমণে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ১টি গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট করার কারণে ম্যাচ শেষে তিনি অফিশিয়াল ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন। এই রোমাঞ্চকর জয়ে গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই নকআউট পর্বের প্রস্তুতি শুরু করতে যাচ্ছে মরক্কো।
