
আদালতে মামলার জট কমানো এবং বিচারপ্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে নেওয়া বিশেষ উদ্যোগে হাইকোর্টে মাত্র চার কার্যদিবসে ২০ হাজার ৭৪০টি পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির নজির স্থাপিত হয়েছে।
বিপুল সংখ্যক পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল Barrister Md. Ruhul Quddus Kajal বলেন, প্রধান বিচারপতির নেওয়া এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি মামলা জট নিরসনে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মামলা জট নিরসনে কয়েকটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ১ হাজার ৪০০ মামলার একটি তালিকাও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রধান বিচারপতি Zubayer Rahman Chowdhury–এর নির্দেশনায় গত ৭ মে থেকে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরোনো ক্রিমিনাল মিস ও রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হয়। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, মামলা জট হ্রাস এবং বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ৭ মে ৩ হাজার ২৪৭টি পুরোনো ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং ১ হাজার ৭৬৫টি পুরোনো রিট মামলা নিষ্পত্তি হয়। ১৪ মে নিষ্পত্তি হয় ৩ হাজার ৮৪২টি ক্রিমিনাল মিস ও ৩ হাজার ২৬২টি রিট মামলা।
এরপর ১১ জুন হাইকোর্ট বিভাগের ১৪টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে ৬ হাজার ১৯৯টি পুরোনো ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। আর ১৮ জুন নিষ্পত্তি হয় ১ হাজার ৮৮৪টি ক্রিমিনাল মিস এবং ৫৪১টি রিট মামলা।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বিশেষ এ কার্যক্রমের আওতায় চার কার্যদিবসে মোট ১৫ হাজার ১৭২টি পুরোনো ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং ৫ হাজার ৫৬৮টি পুরোনো রিট মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। সব মিলিয়ে মাত্র চার কার্যদিবসে হাইকোর্টে ২০ হাজার ৭৪০টি পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে, যা মামলা জট কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
