
গণতন্ত্রকে বিকশিত ও শক্তিশালী করা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, গণমাধ্যম বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করলে সমাজে সন্ত্রাস ও ঘুষ কমবে এবং সমাজ আরও পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠবে।
আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ডিআরইউয়ের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে যখন কোনো আশ্রয় ছিল না, তখন ডিআরইউকে আশ্রয়ের জায়গা হিসেবে দেখেছেন তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, গত ১৭ বছরে দেশে অনেক টেলিভিশন ও পত্রিকা থাকলেও কথা বলা ও মতপ্রকাশের সুযোগ ছিল কেবল একজন ব্যক্তি ও একটি রাজনৈতিক দলের। এর বাইরে যারা কথা বলার চেষ্টা করেছেন, তাদের কেউ গুমের শিকার হয়েছেন, আবার কেউ কারাগারে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যম, টকশো, টকশো হোস্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। এর মধ্যেও মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকরা গণতন্ত্রের আলো কিছুটা জ্বালিয়ে রেখেছিলেন।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে যাচাই-বাছাই করে সত্য সংবাদ প্রকাশ করতে হবে। সত্য প্রচার করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি এলেও সেই ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা সাংবাদিকদের থাকতে হবে।
রিজভী আরও বলেন, আইনের শাসন নিশ্চিত করতে যেমন প্রশাসন ও আদালতকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হয়, তেমনি গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনেও গণমাধ্যমকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হয়।
সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, আবার কেউ কেউ প্রাণ হারিয়েছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতার মহত্তম পেশাকে আরও মহিমান্বিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। জনগণের সমস্যা, প্রত্যাশা, সাফল্য ও সম্ভাবনার কথা নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম।
তিনি বলেন, সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো সত্যনিষ্ঠা, বস্তুনিষ্ঠতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতা। প্রযুক্তির যুগে দ্রুত সংবাদ পৌঁছানোর পাশাপাশি গুজব, অপতথ্য ও যাচাই-বাছাইহীন সংবাদও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তাই দ্রুততার সঙ্গে সঠিক ও যাচাইকৃত তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া সাংবাদিকদের বড় দায়িত্ব।
ডিআরইউয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সাংবাদিক নেতা ও গণমাধ্যমের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।
