
চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার আহ্বান সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর
দেশের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার তাগিদ দিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, চিকিৎসকদের বিশ্বমানের আধুনিক উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির সঙ্গে নিয়মিতভাবে পরিচিত হতে হবে। আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের চক্ষু চিকিৎসাসেবাসহ সামগ্রিক চিকিৎসা খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে।
আজ রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ একাডেমি অব অফথালমোলজি আয়োজিত ‘বার্ষিক সায়েন্টিফিক কনফারেন্স-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, দেশের চক্ষু চিকিৎসাসেবাকে আধুনিক ও বিশেষায়িত করা গেলে চিকিৎসার জন্য সাধারণ ও গুরুতর রোগীদের বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
আগামী ৫০ বছরের চাহিদা ও সেবার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের টেকসই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি জাতীয় বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে চিকিৎসকদের সুনির্দিষ্ট পেশাগত পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি কল্যাণমুখী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছেন, যেখানে কোনো নাগরিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকবে না। চক্ষু রোগীদের দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা গেলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা আরও সহজ হবে।
তিনি জনকল্যাণে মরণোত্তর চক্ষু ও অঙ্গদানের মতো মহৎ ও মানবিক উদ্যোগে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করতে চিকিৎসকদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা জানান, দেশের প্রায় ৫ শতাংশ শিশু জন্মগতভাবে বিভিন্ন ধরনের চক্ষু সমস্যায় আক্রান্ত হয়। এর একটি বড় অংশই সময়মতো সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় ও প্রতিরোধ করা সম্ভব।
বক্তারা স্বাস্থ্য খাতে জাতীয় বাজেটের ১ দশমিক ০২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ বরাদ্দ আরও বাড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে দেশ-বিদেশের ৩৬ জন বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও গবেষক তাদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) সভাপতি অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর, অফথালমোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জিন্নু রাইন (নিউটন)।
বাংলাদেশ একাডেমি অব অফথালমোলজির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবিদ কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক ডা. মো. জানে আলম মৃধা।
