
আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে ২১ বছরের বর্ণিল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন লিওনেল মেসি।
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট হাঙ্গেরির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেক হয় মেসির। এরপর দেশের হয়ে ২০৭ ম্যাচ খেলে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম স্থায়ীভাবে লিখিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আর্জেন্টিনার হয়ে অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন মেসি। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ ও গোলের রেকর্ডের পাশাপাশি বিশ্ব ফুটবলের বড় সব শিরোপাও জিতেছেন এই ফুটবল জাদুকর। দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্জনেও নিজের ক্যারিয়ারকে করেছেন সমৃদ্ধ।
মেসির রেকর্ড ও অর্জন একনজরে
২০০৫ সালের আগস্টে হাঙ্গেরির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় মেসির।
আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ ও গোলের রেকর্ডের মালিক তিনি। ২০৭ ম্যাচে দেশের জার্সিতে করেছেন ১২৫ গোল। ১১টি হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি তাঁর অ্যাসিস্ট ৬৮টি। সব মিলিয়ে গোল ও অ্যাসিস্টে আর্জেন্টিনার ১৯৩টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন মেসি।
২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে আর্জেন্টিনাকে সোনা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
২০১৪ সালে মেসির নেতৃত্বে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হারে তারা। ওই আসরে চার গোল করে এবং দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়ে গোল্ডেন বল জেতেন মেসি।
২০২১ সালে মেসির নেতৃত্বে দীর্ঘ ২৮ বছর পর কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। ফাইনালে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারায় তারা। টুর্নামেন্টে কলম্বিয়ার লুইস দিয়াজের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ চার গোল করে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জেতেন মেসি।
২০২২ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে ফিনালিসিমা ট্রফি জেতেন মেসি। ফাইনালে ইতালিকে ৩-০ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা এবং ম্যাচসেরা হন তিনি।
একই বছর আর্জেন্টিনার ৩৬ বছরের বিশ্বকাপ খরা কাটান মেসি। ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ৩-৩ গোলে সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে জয় পায় আর্জেন্টিনা। টাইব্রেকারসহ ফাইনালে তিন গোল করেন মেসি।
পুরো আসরে সাত গোল ও তিন অ্যাসিস্ট করে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল জেতেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দুইবার গোল্ডেন বল জয়ের রেকর্ড গড়েন মেসি। এর আগে ২০১৪ সালেও এই পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি।
২০২৪ সালে আবারও আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকার শিরোপা এনে দেন মেসি। ফাইনালে কলম্বিয়াকে ১-০ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। কোপা আমেরিকার ইতিহাসে ৩৯ ম্যাচে ১৪ গোল করেছেন তিনি।
২০২৬ বিশ্বকাপেও মেসির নেতৃত্বে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। তবে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা থেকে বঞ্চিত হয় তারা। এবারের আসরে আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট করেন মেসি। বিশ্বকাপ ফাইনালই হয়ে থাকে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ।
বিশ্বের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার নজির গড়েছেন মেসি। তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথম একাদশে থাকা একমাত্র খেলোয়াড়ও তিনি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৩৪ ম্যাচ খেলেছেন মেসি। এ আসরে তাঁর গোলসংখ্যা ২১, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ১৬ বার ম্যাচসেরা হওয়ার কীর্তিও মেসির দখলে।
পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন মেসি।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ২৩ ম্যাচে জয় পেয়েছেন তিনি। এ পথে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৭ জয়ের রেকর্ড ভেঙেছেন মেসি।
সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার রেকর্ডও মেসির। ৩৯ বছর ২৫ দিন বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে এক পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ডও মেসির। ২০২২ সালে দেশের হয়ে ১৮ গোল করেছিলেন তিনি।
