
এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ উদ্বোধন কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
উদ্বোধনের পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩০০১ ফ্লাইটটি রাত ১২টা ২০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করে। ফ্লাইটটিতে ৪১৮ জন হজযাত্রী ছিলেন।
এর আগে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী আশকোনা হজ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি তিনি একটি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন করেন এবং হজযাত্রীদের সঙ্গে মোনাজাতে অংশ নেন।
পরে রাত ১১টা ১৫ মিনিটে তিনি বিমানবন্দরে পৌঁছে প্রথম হজ ফ্লাইটের যাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের হাতে উপহার তুলে দেন। এ সময় তিনি হজযাত্রীদের জন্য দোয়া করেন, যাতে তারা নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছতে পারেন এবং সুস্থভাবে দেশে ফিরতে পারেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই হজ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সুযোগ না থাকলেও ব্যয় প্রায় ১২ হাজার টাকা কমানো সম্ভব হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছর আরও কম খরচে হজ পালনের সুযোগ সৃষ্টি করা যাবে।
হজযাত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা আল্লাহর ঘরে যাচ্ছেন। দেশের জন্য দোয়া করবেন, যেন দেশের মানুষ শান্তিতে থাকতে পারে।”
এ সময় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিন মোট ১৪টি হজ ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করবে ৬টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৪টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৪টি ফ্লাইট।
চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী রয়েছেন।
দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, মোট হজযাত্রীর ৫০ শতাংশ পরিবহন করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বাকি ৫০ শতাংশের মধ্যে সৌদিয়া এয়ারলাইন্স বহন করবে ৩৫ শতাংশ এবং ফ্লাইনাস ১৫ শতাংশ যাত্রী।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ৩০ মে থেকে, যা চলবে ১ জুলাই পর্যন্ত।
