
কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে দেশের কৃষকদের একটি সমন্বিত ডেটাবেস তৈরি হবে, যা কৃষি উৎপাদন পরিকল্পনা ও বাজার ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। তিনি বলেন, এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীরা আর আগের মতো সুবিধা নিতে পারবে না।
শনিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কোন এলাকায় কী পরিমাণ এবং কোন ধরনের ফসল উৎপাদিত হচ্ছে, সে সম্পর্কে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকবে। এতে আগাম চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন পরিকল্পনা করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, “যেসব এলাকায় আলুর উৎপাদন বেশি, সেখানে আগেই চাহিদার তথ্য জানিয়ে দেওয়া যাবে। কৃষকেরা সে অনুযায়ী উৎপাদন করলে বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি হবে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ কমে যাবে।”
একেক মৌসুমে কোনো কোনো সবজির অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পান না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনেক সময় বাজারমূল্য এত কম থাকে যে ক্ষেত থেকে ফসল তুলে বাজারে নেওয়ার খরচও ওঠে না। এতে কৃষকেরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন।
তিনি জানান, কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য সরকার ইউনিয়ন পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎচালিত মিনি কোল্ডস্টোরেজ স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এসব কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ করা হবে, যাতে কৃষকেরা উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ করে উপযুক্ত সময়ে বিক্রি করতে পারেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে কৃষকদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই সরকার কৃষকদের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে হতদরিদ্র কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষিকে আধুনিক ও তথ্যনির্ভর ব্যবস্থাপনায় আনতে চালু করা কৃষক কার্ডের আওতায় শুধু ধান, গম বা পাটচাষি নন; লবণ, সুপারি, নারিকেল, পান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন। এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকের সংখ্যা, উৎপাদনের ধরন ও ফসলভিত্তিক তথ্য সরকারের কাছে সংরক্ষিত থাকবে। ভবিষ্যতে কৃষি ভর্তুকি, প্রণোদনা ও অন্যান্য সরকারি সহায়তাও এই কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম ফিশারি ঘাটের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইলিশের উৎপাদন হ্রাস ও দাম বৃদ্ধি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঝাটকা সংরক্ষণ এবং প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে সরকার জেলেদের সহায়তা দিয়ে আসছে। পাশাপাশি তাদের বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যাতে তারা দাদনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারেন। দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে ইলিশ রপ্তানি বাড়ানোও সরকারের লক্ষ্য।
