×

শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে : প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “আমাদের সব আয়োজন তোমাদের ঘিরে। কারণ আমরা এখন আছি, পরে থাকব না। কিন্তু তোমরা থাকবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নেতৃত্ব তোমরাই দেবে।”

শনিবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ জাতীয় প্রদর্শনী ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রতিটি উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও প্রতিযোগিতামূলক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিটি কাজের আউটপুট থাকতে হবে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে এবং বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখবে।”

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল শক্তি হবে নতুন প্রজন্ম। “তোমরা বাংলাদেশকে সামনে নিয়ে যাবে, গড়ে তুলবে— খেলাধুলা, উদ্ভাবন বা যেকোনো ক্ষেত্রেই তোমাদের ভূমিকা থাকবে।”

শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, শিক্ষাক্রমে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, উদ্ভাবন এবং কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ইংরেজিসহ একাধিক ভাষা শেখানোর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সারা দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনী, স্টার্টআপ আইডিয়া ও বিজ্ঞানচর্চার ওপর ভিত্তি করে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। চ্যাম্পিয়ন হয় সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঢাকা।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা তোমাদের জন্য সুযোগ তৈরি করছি, যাতে তোমরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে বড় হতে পারো। তবে এর বিনিময়ে আমি একটি জিনিস চাই— প্রতিবছর প্রত্যেকে একটি করে গাছ লাগাবে।”

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানো ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। “আমরা যদি নিজেরাই সচেতন না হই, তাহলে ভবিষ্যতে বিশুদ্ধ পরিবেশে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ, তাই তাদের প্রস্তুত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি শিক্ষকদেরও মানবসম্পদ গঠনের কারিগর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আপনাদের ওপর দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।”

অনুষ্ঠানে সারা দেশের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অংশ নেন। এ সময় দেশের ২৯ হাজারের বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। একই দিনে প্রায় ৯০ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয় এবং বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)