
ইয়োয়ানে উইসার জোড়া গোলে উজবেকিস্তানকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ডিআর কঙ্গো।
গ্রুপের শেষ ম্যাচে এই জয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয়ও তুলে নেয় আফ্রিকার দলটি। ‘কে’ গ্রুপে কলম্বিয়া ও পর্তুগালের পর সেরা তৃতীয় দল হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে ডিআর কঙ্গো। নকআউট পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড।
আটলান্টায় ম্যাচের ১০ মিনিটে এলদর শোমুরোদভের গোলে এগিয়ে যায় উজবেকিস্তান। তবে পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ডিআর কঙ্গো। প্রথমে পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান ইয়োয়ানে উইসা। এরপর ফিস্টন মায়েলের গোলে এগিয়ে যায় আফ্রিকানরা। ইনজুরি সময়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন উইসা। চলতি বিশ্বকাপে এটি তাঁর তৃতীয় গোল।
ম্যাচ শুরুর আগেই উজবেকিস্তান জানত, পরের রাউন্ডে উঠতে হলে শুধু জিতলেই হবে না, গোল ব্যবধানেও বিশাল ব্যবধান গড়ে তুলতে হবে। বাস্তবে যা ছিল প্রায় অসম্ভব। তবু ইতালির বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও উজবেকিস্তানের কোচ ফাবিও কানাভারো দলকে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলানোর নির্দেশ দেন।
ম্যাচের মাত্র ৩০ সেকেন্ডে শোমুরোদভ বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তবে ১০ মিনিটেই তিনি দুর্দান্ত এক লব শটে কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসিকে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেন।
প্রথমার্ধে নাথানায়েল এমবুকুর একটি গোল ভিএআরের সহায়তায় ফাউলের কারণে বাতিল হয়। দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার আরও একটি সুযোগ নষ্ট করেন উইসা। অন্যদিকে শোমুরোদভের আরেকটি লব শট অল্পের জন্য লক্ষ্যে যায়নি।
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় যখন ম্যানচেস্টার সিটির ডিফেন্ডার আবদুকোদির খুসানোভের ট্যাকলে বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হন উইসা। স্পট-কিক থেকে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান তিনি।
এর মাত্র দুই মিনিট পর মেশাক এলিয়ার ডিফ্লেক্টেড শট থেকে বল জালে ঠেলে ডিআর কঙ্গোকে এগিয়ে দেন ফিস্টন মায়েলে। এরপর বক্সের বাইরে থেকে দারুণ বাঁকানো শটে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করে ৩-১ ব্যবধানে দলের জয় নিশ্চিত করেন উইসা।
ডিআর কঙ্গোর এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে এবারের বিশ্বকাপে আফ্রিকার দলগুলোর দুর্দান্ত অভিযান আরও জোরালো হলো। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ১০টি আফ্রিকান দলের মধ্যে এখন পর্যন্ত কেবল তিউনিসিয়াই গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে।
