
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সর্বজনীন অধিকারে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী।
তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বর্তমানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের হার সবচেয়ে কম। দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
আজ সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এতে অংশ নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং অর্পিত সম্পত্তি আইনসহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার জন্য একজন ‘ফোকাল পয়েন্ট’ কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানান। মন্ত্রী বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা ও দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
আলোচনায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রামমন্দির নির্মাণ ও একটি বক্তব্য ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের বিষয়ও উঠে আসে। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও স্বার্থ সুরক্ষাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে—এমন কোনো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। দেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
