
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে অবস্থিত ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ রোববার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি প্রকল্পের প্রশাসনিক ভবনে যান। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক এ তথ্য জানান।
সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং নেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা, উৎপাদন ও পরিচালন কার্যক্রম, সক্ষমতা, জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।
ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে পারেন, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রটি শতভাগ দেশীয় প্রকৌশলী ও জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এতে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি দেশীয় প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দক্ষতা ও সক্ষমতার প্রশংসা করেন এবং তাঁদের উৎসাহ দেন। এ সময় প্রকল্প এলাকায় একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটি ৬০০ মেগাওয়াট ইউনিট নিয়ে গঠিত। এতে আধুনিক আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি কয়লা পরিবহনের জন্য বন্দর সুবিধা, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, অ্যাকসেস রোডসহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো রয়েছে।
ব্রিফিং শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি প্রস্তাবিত ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শনের উদ্দেশে রওনা হন এবং ১২টা ২৯ মিনিটে সেখানে পৌঁছান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় প্রকল্পটির পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেন।
একই এলাকায় প্রস্তাবিত এলএনজি-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প এবং নতুন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত স্থানও পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে এলপিজি, এলএনজি ও কয়লা টার্মিনাল-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি।
পরিদর্শনকালে এসব প্রকল্পের পরিকল্পনা, সম্ভাব্য ব্যবহার ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত ও দিকনির্দেশনাও দেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী কয়লা জেটি পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। কয়লা পরিবহন ও খালাসের জন্য বন্দর অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে এর সমন্বিত কার্যক্রম সম্পর্কেও তাঁকে অবহিত করা হয়।
এ ছাড়া প্রস্তাবিত অস্থায়ী এলপিজি জেটি এবং ভবিষ্যতে ৩ ও ৪ নম্বর কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য নির্ধারিত স্থানও পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ও দক্ষ ব্যবহার, প্রকল্প পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বৃহৎ অবকাঠামো পরিচালনায় অর্থনৈতিক সক্ষমতা, পরিবেশগত প্রভাব এবং জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
মাতারবাড়িকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর ও সংশ্লিষ্ট শিল্প অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। এসব অবকাঠামোর পরিকল্পিত ও কার্যকর ব্যবহার দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মাতারবাড়ি প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে বাঁশখালীর উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামছুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও বিশেষ রাজনৈতিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
