
শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সৃজনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কার্যকর বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলায়েত খান উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন।
ফারজানা শারমীন বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা থেকে বিমুখ করে রাখা হয়েছে। এর ফলে মানসিক শক্তি হারিয়ে হতাশাগ্রস্ত অনেক শিক্ষার্থী অনলাইন জুয়া ও মাদকের ভয়াল ছোবলে পড়েছে।
তিনি বলেন, আগের সরকার শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করেছে। প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করলে শিক্ষার্থীরা কথা বলতে এবং মেরুদণ্ড সোজা করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে শিখবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর শিক্ষার্থীদের ওপর পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রতিযোগিতায় তাদের অনেকটা যুদ্ধক্ষেত্রের যোদ্ধায় পরিণত করা হয়েছিল। অনেক শিক্ষার্থী এই চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছে। এমন শিক্ষাব্যবস্থা তারা চান না উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন আনন্দমুখর পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, সেই ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি মানসিক উৎকর্ষ সাধনে পাঠ্যক্রমবহির্ভূত কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া চর্চায় উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
ফারজানা শারমীন বলেন, এ লক্ষ্যে টেলিভিশনে ‘নতুন কুঁড়ি’ আয়োজন করা হয়েছে। শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিযোগিতাও দেশের বিভিন্ন খেলার মাঠে পৌঁছে গেছে। সৃজনশীল কার্যক্রম ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধন এবং মেধাবী জাতি গড়ে তোলাই এর লক্ষ্য।
শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে। সন্তানদের সম্পদে পরিণত করতে শিক্ষকদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
দিনব্যাপী সফরে প্রতিমন্ত্রী লালপুর উপজেলার এবি ইউনিয়ন, দুয়ারিয়া ইউনিয়ন, কদিমচিলান ইউনিয়ন ও ওয়ালিয়া ইউনিয়নে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
এ ছাড়া তিনি আড়বাব ইউনিয়নে সড়ক উন্নয়ন এবং লালপুর ইউনিয়নে একটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করেন।
পরে এবি ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। সভায় লালপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনার রশীদ পাপ্পু ও গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মোলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।
