
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুজন।
শনিবার সকাল ৬টার দিকে পাকুন্দিয়া পৌরসদরের বরাটিয়া চৌরাস্তা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজনের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি মো. সেলিম মিয়া (৩৫), উপজেলার বাহাদিয়া গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে। নিহত অপর ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আহতরা হলেন—পৌরসদরের বরাটিয়া গ্রামের সিরাজুল হকের ছেলে রেনু মিয়া এবং পাকুন্দিয়া এলাকার রইছ উদ্দিনের ছেলে ছোটন মিয়া।
পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ভোরে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী অনন্যা পরিবহনের একটি বাস পাকুন্দিয়া পৌরসদরের বরাটিয়া চৌরাস্তা এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সাইকেলে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় অটোরিকশার এক যাত্রী সেলিম মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় অটোরিকশার চালক, অপর এক যাত্রী ও সাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অনন্যা পরিবহনের চালক সম্ভবত ঘুমন্ত অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর জানা যাবে।
পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. বায়োজিদ মাহমুদ বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই একজন মারা যান। আহত তিনজনের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান দুইজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। কিশোরগঞ্জে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
