
অবিরাম বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে কুড়িগ্রামের তিস্তা, দুধকুমার, ধরলাসহ জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় নিচু চরাঞ্চল ও দ্বীপচর প্লাবিত হতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) যৌথভাবে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ২৮ দশমিক ৮২ মিটার। মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে সকাল ৯টায় তা ১৪ সেন্টিমিটার বেড়ে ২৮ দশমিক ৯৬ মিটারে পৌঁছায়। বর্তমানে নদীটির পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
একই সময়ে দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানি ১ সেন্টিমিটার এবং ধরলা নদীর তালুকসিমুলবাড়ী পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ১ সেন্টিমিটার কমেছে এবং ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে পানির স্তর অপরিবর্তিত রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় চিলমারী উপজেলায় ১৫০ মিলিমিটার, পাটেশ্বরী এলাকায় ৫৪ মিলিমিটার এবং কুড়িগ্রাম সদরে ৫২ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিস্তাসহ কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা স্পর্শ করতে পারে। এ কারণে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তা অববাহিকার ঘড়িয়ালডাঙ্গা চরের নিচু এলাকার ফসলি জমি ও কয়েকটি বসতভিটায় ইতোমধ্যে পানি প্রবেশ করেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
জেলা চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, ১৬ নদ-নদী বেষ্টিত কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের মানুষের বন্যা ও নদীভাঙনজনিত দুর্ভোগ লাঘবে স্থায়ী ভাঙনরোধ প্রকল্প গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ জানান, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ইতোমধ্যে ২৮৫ মেট্রিক টন জিআর চাল, ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত রয়েছে এবং প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
