×

মেরামত শেষে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিটে উৎপাদন শুরু

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট ২৯ দিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছে। বুধবার দুপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে ট্রায়াল ভিত্তিতে ইউনিটটির উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়। সফল পরীক্ষার পর বুধবার দুপুরে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরু হলে দুপুর আড়াইটার দিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

বর্তমানে কেন্দ্রটির ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১ নম্বর ইউনিট এবং ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩ নম্বর ইউনিট চালু রয়েছে। ১ নম্বর ইউনিট থেকে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। অন্যদিকে পুনরায় চালু হওয়া ৩ নম্বর ইউনিট থেকে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উৎপাদন বাড়িয়ে ২০০ মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধান প্রকৌশলী বলেন, আগে চালু হওয়া একটি ইউনিট পুনরায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেটি আবার সচল হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। তৃতীয় ইউনিট চালু হওয়ায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে স্থাপিত ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই ইউনিটটি দীর্ঘদিন সচল থাকার পর ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর বন্ধ হয়ে যায়। কারিগরি ত্রুটি ও জ্বালানি-সংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে অবশেষে ইউনিটটি আবার উৎপাদনে ফিরেছে।

এদিকে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম জানান, কোল ইয়ার্ড-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। উৎপাদিত কয়লা বিকল্প স্থানে সংরক্ষণ এবং খোলা বাজারে সীমিত পরিসরে বিক্রির বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিকটস্থ বিদ্যুৎকেন্দ্রের আরেকটি ইউনিট চালু হওয়ায় কয়লার ব্যবহারও বাড়বে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কয়লার ব্যবহার বাড়ার ফলে বড়পুকুরিয়া প্রকল্পের কার্যক্রম আরও স্থিতিশীল হবে এবং জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)