
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশৃঙ্খলা থামিয়ে সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং জনপরিসরে নৈতিক অবক্ষয়মূলক কনটেন্ট প্রতিরোধ করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান।
তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই মুক্তচিন্তা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বা সাংবাদিকদের দমনের উদ্দেশ্যে কোনো আইন করা হচ্ছে না।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ বিভিন্ন আইনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে দমিয়ে রাখার প্রবণতা ছিল। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক। খসড়া আইনে এমন কোনো দ্ব্যর্থবোধক শব্দ না থাকে, যা ভবিষ্যতে গণমাধ্যমের ওপর অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে খসড়া পরিমার্জন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাকস্বাধীনতার নামে বিভিন্ন অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন গালিগালাজ, সাইবার বুলিং ও কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে সামাজিক মূল্যবোধ ও নীতি-নৈতিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সামাজিক অবক্ষয় রোধের পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা—দুটি বিষয়কে সমন্বয় করেই আইনটি করা হচ্ছে।
আইনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আন্দালিভ রহমান বলেন, শুধু কঠোর আইন করে সব অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়। সাইবার স্পেসে সত্যতা যাচাই না করে মানহানিকর তথ্য বা পোস্ট শেয়ার করাও অপরাধের আওতায় পড়তে পারে—এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে।
এর আগে সভার সূচনা বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাইবার সুরক্ষা সংশোধন আইন চূড়ান্ত করার আগে তথ্য প্রকাশ, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতামত প্রকাশের সুরক্ষার স্বার্থে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ ও মতামত নেওয়া জরুরি। এ কারণেই গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমকর্মীরাই সবচেয়ে ভালো জানেন, আইনের ভাষা মাঠপর্যায়ে কীভাবে কাজ করে এবং কোথায় অস্পষ্টতা তৈরি হতে পারে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাইবার সুরক্ষা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পরস্পরবিরোধী নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক হওয়া উচিত।
গণমাধ্যম সম্পাদকদের আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে আইনটি সংশোধন করা হচ্ছে না। প্রিন্ট মিডিয়ার উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। আইনের কোথাও অস্পষ্টতা বা জটিলতা থাকলে তা নিয়ে মুক্তমনে পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাইবার সিকিউরিটি আইনের সংশোধন প্রয়োজন। তবে আইনটির যাতে অপব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশেও অনলাইন জালিয়াতি, সেক্সটোরশন, নারীদের ব্ল্যাকমেইলিং এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের মতো অপরাধ প্রতিরোধে যুগোপযোগী আইন প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে আইনটি পরিমার্জনের নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে এর অপব্যবহার বা বিতর্কের সুযোগ না থাকে।
সভায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে প্রস্তাবিত আইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত দেন। আলোচনায় আইনের অপব্যবহার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তির ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং নাগরিকদের সাইবার অধিকার লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহির বিধান রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় সাইবার সুরক্ষা (সংশোধিত) আইন, ২০২৬-এর খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করেন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা।
সম্পাদক ও প্রকাশক:
এ্যাডভোকেট মিঞা মোঃ শিরণ আলম
নিবার্হী সম্পাদক: মোঃ শাহ আলম মন্ডল
বার্তা সম্পাদক: ১। মোঃ মঈনুল ইসলাম
২। মোঃ হানিফুর রহমান
মফস্বল সম্পাদক: মোঃ হাসিন ইশরাক সরকার
অফিস:
ঘাটপাড়, বিরামপুর,দিনাজপুর
ইমেইল:birampurbd26@gmail.com
মোবাইল: সম্পাদক ও প্রকাশক: 01716-559608
নির্বাহী সম্পাদক: 01715-778350
Copyright © 2026 Birampurbd