
গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার পাশাপাশি রাজনৈতিক দল ও নেতাকর্মীদের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ আয়োজিত ‘নির্বাচনী সহিংসতা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন: বাংলাদেশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের মানুষ আশা করেছে অতীতের সবকিছু পেছনে ফেলে নতুন করে গণতন্ত্রের পথচলা শুরু হবে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও উন্নত হবে, বিচার বিভাগ সত্যিকার অর্থে স্বাধীনভাবে কাজ করবে, গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করবে এবং নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র শুধু রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা ইতিহাসের বিষয় নয়, এটি মানুষের মনস্তত্ত্বেরও বিষয়। মানুষের মানসিকতা পরিবর্তন না হলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কোনো উদ্যোগই কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।
বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের তীব্র ও কঠোর সমালোচনা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চা। তবে সেই সমালোচনা গঠনমূলক, পারস্পরিকভাবে উপকারী ও ভবিষ্যৎমুখী হওয়া উচিত। তাহলেই গণতন্ত্রের পথচলা মসৃণ হবে এবং রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটবে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রত্যেককে নিজের ভূমিকা ও দায়িত্বের দিকে তাকাতে হবে। এক হাতে কখনো তালি বাজে না। সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই দায়িত্ব রয়েছে। একতরফাভাবে শুধু একটি পক্ষের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হবে না।
রিজভী বলেন, রাজনৈতিক নেতারা ভাষা, শব্দচয়ন ও বক্তব্যের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকলে নেতাকর্মীদের মধ্যে সহিংস মনোভাব তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমবে।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যত আইন-কানুনই করা হোক না কেন, মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন না হলে তা কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। প্রত্যেকের মধ্যে আইন মেনে চলার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়ে রিজভী বলেন, বিচারকরা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও রায় প্রদানের ক্ষেত্রে সুবিবেচনাপ্রসূত ভূমিকা পালন করবেন—এটাই প্রত্যাশা। অতীতে বিচার বিভাগে যে ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে। গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।
একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকেও নিজেদের আচরণ ও কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক:
এ্যাডভোকেট মিঞা মোঃ শিরণ আলম
নিবার্হী সম্পাদক: মোঃ শাহ আলম মন্ডল
বার্তা সম্পাদক: ১। মোঃ মঈনুল ইসলাম
২। মোঃ হানিফুর রহমান
মফস্বল সম্পাদক: মোঃ হাসিন ইশরাক সরকার
অফিস:
ঘাটপাড়, বিরামপুর,দিনাজপুর
ইমেইল:birampurbd26@gmail.com
মোবাইল: সম্পাদক ও প্রকাশক: 01716-559608
নির্বাহী সম্পাদক: 01715-778350
Copyright © 2026 Birampurbd