
বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি যাত্রীবাহী বাস দিনমজুরদের ওপর উঠে গেলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে কাজের সন্ধানে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিকদের ওপর বাসটি উঠে গেলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহত সাতজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন— বগুড়া সদর উপজেলার ফাপোঁড় মধ্যপাড়ার বেল্লাল হোসেন (৪০), কাহালু উপজেলার নারহট্ট সরদারপাড়ার নুর মোহাম্মদ সরদার (৭৫), জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মো. আনারুল ইসলাম (৫৫), জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আমিরুল (৪০), গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার আবু সাইদ (৪৫) ও নুর আলম (৪৫) এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মো. তাজিমুল (৪৭)।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের দেখতে যান প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. মনোয়ারুল কাদির বিটু।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দুর্ঘটনার খবরে প্রধানমন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের মাথা ও পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং আইসিইউতে ভর্তি একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তিনি জানান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ ও রক্ত সরবরাহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করবে। প্রয়োজন হলে গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি মোটরসাইকেল আরোহীকে বাঁচাতে গিয়ে বাসচালক নিয়ন্ত্রণ হারান। পরে বাসটি সড়কের পাশে থাকা একটি খুঁটিতে ধাক্কা লেগে দিনমজুরদের ওপর উঠে যায়।
তিনি জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের দাবির মুখে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ ঘটনাস্থলে স্পিডব্রেকার নির্মাণের কাজ শুরু করলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, আহতদের দেখতে হাসপাতালে গিয়ে বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন।
এ ছাড়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক:
এ্যাডভোকেট মিঞা মোঃ শিরণ আলম
নিবার্হী সম্পাদক: মোঃ শাহ আলম মন্ডল
বার্তা সম্পাদক: ১। মোঃ মঈনুল ইসলাম
২। মোঃ হানিফুর রহমান
মফস্বল সম্পাদক: মোঃ হাসিন ইশরাক সরকার
অফিস:
ঘাটপাড়, বিরামপুর,দিনাজপুর
ইমেইল:birampurbd26@gmail.com
মোবাইল: সম্পাদক ও প্রকাশক: 01716-559608
নির্বাহী সম্পাদক: 01715-778350
Copyright © 2026 Birampurbd