
হৃদরোগে মৃত্যু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার মানুষ নতুন করে হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং প্রতিদিন শতাধিক রোগী হৃদরোগে মারা যান। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসা নয়, হৃদরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
আজ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সমাজসেবা কার্যালয়ের রোগীকল্যাণ সমিতি আয়োজিত জন্মগত হৃদরোগীদের আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী অবহেলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করছে। ‘সকলের জন্য মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি জনসচেতনতা কার্যক্রমও জোরদার করেছে।
তিনি জানান, হৃদরোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান পরিহার, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার কম খাওয়া এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশু হৃদরোগীদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ চালু করা হয়েছে। গত এক বছরে জটিল রোগীদের চিকিৎসায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যা নতুন বাজেটে ৬০০ কোটিতে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অর্থের অভাবে যেন কারও চিকিৎসা বা শিক্ষা বন্ধ না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্যখাতকে আধুনিকায়ন করছে। হৃদরোগ চিকিৎসাকে আরও আধুনিক ও সুলভ করার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক সচেতনতা বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, দেশে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ মানুষ হৃদরোগ ও এর সংশ্লিষ্ট জটিলতায় মারা যান। এ কারণে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটকে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধে সারাদেশে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যশিক্ষা, নিয়মিত স্ক্রিনিং ক্যাম্প, তামাক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক সক্রিয়তা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থাও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ ও মহিলা-শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ১০০ জন জন্মগত হৃদরোগীর হাতে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান তুলে দেন।
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক:
এ্যাডভোকেট মিঞা মোঃ শিরণ আলম
নিবার্হী সম্পাদক: মোঃ শাহ আলম মন্ডল
বার্তা সম্পাদক: ১। মোঃ মঈনুল ইসলাম
২। মোঃ হানিফুর রহমান
মফস্বল সম্পাদক: মোঃ হাসিন ইশরাক সরকার
অফিস:
ঘাটপাড়, বিরামপুর,দিনাজপুর
ইমেইল:birampurbd26@gmail.com
মোবাইল: সম্পাদক ও প্রকাশক: 01716-559608
নির্বাহী সম্পাদক: 01715-778350
Copyright © 2026 Birampurbd