
চোট কাটিয়ে দলে ফিরেই জ্বলে উঠলেন লামিন ইয়ামাল। তার গোলেই কাটল স্পেনের আক্রমণভাগের দীর্ঘস্থায়ী গোলখরা। বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘এইচ’-এর ম্যাচে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা।
হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে প্রায় দুই মাস মাঠের বাইরে থাকার পর প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে সুযোগ পান ইয়ামাল। ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। সেই গোলেই বিশ্বকাপে স্পেনের দীর্ঘ গোলশূন্যতা কাটে।
এরপর মিকেল ওয়ারজাবাল জোড়া গোল করে মাত্র ২৪ মিনিটের মধ্যেই স্পেনকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। ফলে বিরতির আগেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় লা রোজারা।
তরুণ তারকার খেলার সময় নিয়ে সতর্ক ছিলেন স্পেন কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তে। তাই বিরতির সময়ই ইয়ামালকে তুলে নেওয়া হয়। দ্বিতীয়ার্ধে হাসান আল-তামবাকতির আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে ৪-০ করে স্পেন।
এই জয়ে গ্রুপ ‘এইচ’-এর শীর্ষে উঠে গেছে স্পেন। বিশ্বকাপ শুরুর আগে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে বিবেচিত হলেও প্রথম ম্যাচে নবাগত কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে সমালোচনার মুখে পড়েছিল তারা।
সেই ম্যাচে বলের দখলে আধিপত্য থাকলেও আক্রমণে ছিল না ধার। ফলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন পূরণে ইয়ামালের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রথম ম্যাচের পর সমালোচনার জবাবে খেলোয়াড়দের উদ্বুদ্ধ করেছিলেন ডি লা ফুয়েন্তে, আর মাঠে নেমে তার শিষ্যরা জবাব দিয়েছেন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে।
ইয়ামালের পাশাপাশি পেড্রো পোরো, ডানি ওলমো ও অ্যালেক্স বায়েনাকেও প্রথম একাদশে সুযোগ দেওয়া হয়। বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বশেষ গোলের পর থেকে ২,৫০০-এর বেশি পাস ও ৫০টিরও বেশি শট নেওয়ার পর অবশেষে জালের দেখা পায় স্পেন। আর সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটান ইয়ামালই।
ওয়ারজাবালের নিচু ক্রস থেকে সহজ ফিনিশে গোল করেন ১৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করা সৌদি আরব এদিন ছিল অনেকটাই নিষ্প্রভ। ঘরোয়া লিগে বিপুল বিনিয়োগের প্রতিফলন জাতীয় দলের খেলায় দেখা যায়নি।
স্পেনের দ্বিতীয় গোল আসে কর্নার থেকে। অমারিক লাপোর্তের হেড থেকে পাওয়া বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ওয়ারজাবাল। মাত্র তিন মিনিট পর ডানি ওলমোর হেড থেকে আসা বল ভলিতে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলও করেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে শেষ ১৩ ম্যাচে এটি ছিল তার ১৪তম গোল।
প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিকের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন ওয়ারজাবাল, তবে তার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। বিরতির আগেই ম্যাচের ফল অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় ইয়ামাল ও ওয়ারজাবাল—দুজনকেই বিশ্রাম দেওয়ার সুযোগ পান ডি লা ফুয়েন্তে।
তবে পরিবর্তনের পরও স্পেনের আক্রমণের ধার কমেনি। চতুর্থ গোলটিও আসে কর্নার থেকে। মার্ক কুকুরেলার শট প্রথমে ঠেকান সৌদি গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল-ওয়েসিস। কিন্তু ফিরতি বল দুর্ভাগ্যজনকভাবে আল-তামবাকতির গায়ে লেগে জালে ঢুকে গেলে ৪-০ ব্যবধান নিশ্চিত হয়।
নিজের ৬৫তম জন্মদিনে এটি ছিল কোচ ডি লা ফুয়েন্তের জন্য আদর্শ উপহার। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে ফেরা নিকো উইলিয়ামস ও মিকেল মোরিনোও বদলি হিসেবে নেমে মূল্যবান কিছু সময় মাঠে কাটানোর সুযোগ পান।
অন্যদিকে সৌদি কোচ গিওর্গিওস ডোনিসের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হিউস্টনে কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে সৌদি আরব। সেই ম্যাচে জয় পেলে ১৯৯৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে পারবে ‘এ্যারাবিয়ান ফ্যালকন্স’রা।
অন্যদিকে স্পেন আগামী শুক্রবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক:
এ্যাডভোকেট মিঞা মোঃ শিরণ আলম
নিবার্হী সম্পাদক: মোঃ শাহ আলম মন্ডল
বার্তা সম্পাদক: ১। মোঃ মঈনুল ইসলাম
২। মোঃ হানিফুর রহমান
মফস্বল সম্পাদক: মোঃ হাসিন ইশরাক সরকার
অফিস:
ঘাটপাড়, বিরামপুর,দিনাজপুর
ইমেইল:birampurbd26@gmail.com
মোবাইল: সম্পাদক ও প্রকাশক: 01716-559608
নির্বাহী সম্পাদক: 01715-778350
Copyright © 2026 Birampurbd